৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখ রবিবার, কিছু দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম - ‘ কণ্ঠশীলনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করলেন সভাপতি’ - এর পরিপ্রেক্ষিতে কণ্ঠশীলনের সকল প্রাথমিক সদস্যগণ, সকল সাধারণ সদস্যগণ, ২জন ব্যতীত সকল কার্যকরী পরিষদের সদস্যগণ, নিয়মিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ ও প্রশিক্ষকবৃন্দের অভিমত অবগতির জন্যে কণ্ঠশীলনের সকল শিক্ষার্থী, দেশে-বিদেশে অবস্থান করা কণ্ঠশীলনের সকল শুভানুধ্যায়ীদের কাছে প্রাসঙ্গিকভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলো।
দীর্ঘদিন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী কণ্ঠশীলনের সভাপতি ছিলেন। ফলে সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর এ মতো বিপরীত বিবৃতি তাঁর কাঁধে বর্তায়। কণ্ঠশীলনের লাভজনক প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। কণ্ঠশীলন
লিমিটেড-এর নামে কোনো ব্যাংক হিসাব, ট্রেড লাইসেন্স, সভা বা অন্য কোনো ধরনের কার্যক্রম কোনো সময়ই
ছিলো না। তৎকালীন পর্ষদ এবং সাধারণ সভার অবগতিতে সে-সময়ের একটি সাংগঠনিক সমস্যার সমাধানকল্পে সাময়িকভাবে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর গ্রহণ করা হয়েছিলো মাত্র, এবং পর্ষদের অনুমোদনেই তা আইনানুগ পদ্ধতিতে বাতিল করা হয়েছে। যার সকল কাগজ-পত্র প্রাক্তন সভাপতি শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে প্রদান করা হয়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রাক্তন সহ-সভাপতি আহমাদুল হাসান হাসনু ব্যতীত কেউ এই মেয়াদের কার্যকর পরিষদ সদস্য নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনে তাঁদের জড়িত হবার কোন সুযোগ ছিলো না। যথাযথভাবে উল্লেখিত অনিয়মের উত্তর দিতে পারবেন এই সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি অথবা প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সকলের জানামতে এখানে কোন অনিয়ম হয়নি।
দুই পক্ষের বৈঠকের বিষয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি -তা ঠিক নয়। গত ২৪/০৮/২০১৪ তারিখে প্রাক্তন সভাপতি শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর বাসায় কণ্ঠশীলনের কার্যকরী পরিষদ সদস্যগণ ও সাধারণ সদস্যগণ মিলে ১৫ সদস্যের একটি দলের
সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সেখানে নিচেরর বিষয়গুলির সঙ্গে তিনি একমত হন:
1. সাধারণ সভার তারিখ নির্ধারণ ও সভা আহবানের অনুমোদন।
2. পুরোনো কোন সদস্য কাজে যুক্ত হতে চাইলে নিয়মমাফিক, ধারাবাহিক কাজের মধ্য দিয়ে সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করা।
3. সম্মিলিত সভায় কণ্ঠশীলনের সকল সক্রিয় সদস্য উপস্থিত থাকতে পারবে এবং সকলেই স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করতে পারবে।
০৫/০৯/২০১৪ তারিখের সভার পূর্বেই আমরা জানতে পারি যে, একটি পূর্ব প্রণিত কমিটি ঐ সভায় উপস্থাপন করা হবে, যদিও সেটি সাধারণ সভা হিসেব গণ্য হবে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে কণ্ঠশীলন কার্যালয়ে প্রায় ৬৬জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ০৫/০৯/২০১৪ তারিখের সভায় না যাওয়ার। তারপরের সংবাদ সকলের জানা।
কণ্ঠশীলন দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, সকল অপ-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে বরাবর যুক্ত ছিল, আছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সকল নিয়ম মেনেই দীর্ঘদিন ধরে কণ্ঠশীলন পরিচালিত হয়ে আসছে। বাংলা ভাষা তথা সাহিত্যের বাচিক চর্চার সকল দিকে সংগঠনকে এক মানসম্পন্ন স্থানে অধিষ্ঠিত করে এর সকল সদস্য মিলেমিশে। যাদের নামে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তারা প্রত্যেকেই ওয়াহিদুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সংগঠনের আরম্ভ থেকে এর শিক্ষা
কার্যক্রম সুনামের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। গোলাম সারোয়ার এবং মীর বরকত শুধু কণ্ঠশীলনেই নয়, দেশে-বিদেশে আবৃত্তি, নাটক ও সাহিত্যের বাচিক প্রসারে অবদান রেখে চলেছেন, যা সর্বজনবিদিত।
শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী সবসময়ই আমাদের শ্রদ্ধাভাজন। অনুজদের পথ চলায় তাঁর পরামর্শ সব সময় কাম্য। একসাথে পথ চলায় দুই মত কিংবা একাধিক মত হওয়া স্বাভাবিক তা আমরা অগ্রজদের আহবানে সারিয়ে তুলতে পারি। এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের মান রক্ষা করতে আমরাও চাই। প্রত্যাশা করি এই বিবৃতির মাধ্যমে সকল বিষয় পরিষ্কার হবে।
স্বাক্ষরিত
কণ্ঠশীলনের
৬৬ জন সাধারণ সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যবৃন্দ।
উৎস
>> পুলিশি হয়রানির নিন্দায় কণ্ঠশীলনের আবৃত্তিকর্মীরা

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন